রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদের দুর্নীতি ও অনিয়ম যেন থামছেই না। নিয়োগ ও বদলী বানিজ্য, বিদ্যালয় মেরামতের নামে নিম্মমানের মালামাল ব্যবহার, নৈশপ্রহরীদের বেতন আটকে রেখে উৎকোচ গ্রহন করে বেতন ছাড়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের লাইসেন্স জটিলতার সুযোগে অর্থ আদায়, কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেখান থেকে অভিযুক্ত পক্ষের থেকে টাকা নিয়ে সমাধান সহ প্রতিনিয়ত নানা অভিনব উপায়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত সৈয়দ আহমদ ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ত্রিশাল উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তখন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।
সৈয়দ আহমদ ত্রিশালের একটি চক্রের যোগসাজসে চাকুরী প্রার্থীদের নিকট থেকে চাকুরী প্রদানের প্রলোভনে ৪-৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। এ নিয়ে তৎকালীন সময়ে একাধিক স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। তখন কিছু কিছু চাকুরী প্রার্থীর টাকা ফেরতও দেওয়া হয়। ফলে কর্তৃপক্ষ উক্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় এবং অভিযুক্ত সৈয়দ আহমদকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বদলী করা হয়। হোসেনপুরেও তার নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তাকে ময়মনসিংহের ভালুকায় বদলী করা হয়। ভালুকাতেও তিনি তার অভিনব পন্থায় একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে থাকলে ভালুকাতেও তার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সৈয়দ আহমদ ভালুকায় যোগদানের পরপরই প্রায় অর্ধশত নৈশপ্রহরীদের ২মাসের বেতন আটকে রেখে টাকার বিনিময়ে বেতন ছাড় করেন। হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলির একটা প্রোগ্রাম থেকে লাইসেন্স জটিলতার সুযোগ নিয়ে একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে সেই টাকা ফেরতও দেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে। কাচিনা ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্র ধরে তার থেকেও টাকা নিয়ে সেই অভিযোগ আজও নিষ্পত্তি করেননি বলে প্রতিবেদকদের জানিয়েছেন অভিযোগকারী চাকরিপ্রার্থীদের একজন। এমনকি সেই সময় গনমাধ্যমে যাতে নিউজ না হয় সেজন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পরামর্শ দেন সৈয়দ আহমদ যা খোদ ওই শিক্ষকই স্বীকার করেছিলেন।
৭১ নং কাদিগড় স: প্রা: বিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বহাল রাখার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তার দুর্নীতি এবং অনিয়ম এর প্রতিবাদে ভালুকায় মানববন্ধন এবং ঝাড়ুমিছিল পর্যন্ত হয়েছে। ক্ষুন্ন হয়েছে শিক্ষা অফিসের ভাবমূর্তি। এমনিভাবে সমগ্র উপজেলায় তিনি অনিয়ম ও দূর্নীতির এক মহোৎসবে মেতে রয়েছেন। এছাড়াও গত ২৫ নভেম্বর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকুরী প্রার্থী চাকুরীর জন্য প্রদানকৃত ১০ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়ে দুদক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবিষয়ে দুদক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।